কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের হিজুলী চর পুর্ব সাতভিটা এলাকার মোঃ আবুল কালাম ও মোছাঃ কলিমা বেগম দম্পতির কন্যা মোছাঃ সুমি বেগম (২৪) এবং সুমীর আড়াই বছরের শিশু সন্তান কে স্বামী ও শ্বশুড় শ্বাশুড়ি পারিবারীক কলহের জেরে নির্জন জায়গায় তুলে নিয়ে গিয়ে প্রানে মেরে ফেলার চেষ্ঠা করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হত্যা প্রচেষ্টা ও কুমিল্লার দাউদকান্দি তে স্বামীর ২য় বিবাহ এবং সুমির উপর অমানবিক নির্যাতনের ধারাবাহিক বর্ননার লিখিত অভিযোগ উলিপুর থানায় দাখিলের এক মাস পেরিয়ে গেলেও ভূক্তভোগীদের অভিযোগ তারা কোন প্রকার পুলিশি সেবা সুরক্ষা পাননি।শিশু কে অপহরন সহ সুমী কে প্রান নাশের চেষ্ঠা, বাড়ীতে অবৈধ জনতা কর্তৃক বেআইনি প্রবেশ করে শারিরীকভাবে লাঞ্চিত , বিনা অনুমতিতে দ্বিতীয় বিবাহ ও স্বামী শ্বাশুড়ি কর্তৃক নির্যাতন করে বাড়ী থেকে তারানোর অভিযোগ এনে গত ২৫-০২-২০২১ খৃীঃ নির্যাতিতা সুমীর মা মোছাঃ কলিমা বেগম মেয়ের পক্ষে উলিপুর থানায় একটি লিখিত এজাহার দেন। কলিমা বেগমের ভাষ্যমতে অভিযোগটি এএসআই রুহুল আমীন এর হাতে পরে এবং তিনি পরবর্তীসময় তদন্ত করতে যান এবং স্থানীয় স্বাক্ষী ও ঘটনার স্থান পরিদর্শন করেন।
কান্না জড়িত কন্ঠে সুমীর মা উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্যে প্রতিবেদক কে বলেন, মেয়ের শ্বশুড় বাড়ীর লোকজন প্রভাবশালী হওয়ায় প্রতিনিয়ত গুম খুন মার পিটের হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। কে বা কাহারা প্রতিনিয়ত কখনও পুলিশ পরিচয়ে মোবাইল ফোনে আইনি প্রক্রিয়ায় না যাওয়ার চাপ প্রয়োগ করে সুমীর পরিবারকে ভীত সন্ত্রস্ত করে তুলেছে। পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে তারা এর সমাধান ও বিচার দাবীও করেছেন।বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ফেরদৌস আলী মুঠোফোনে ঘটনার সব সত্যতা স্মীকার করে বলেন, আমি মিজে মধ্যস্থতা করে সুমী ও তার মা বাবা কে বুঝিয়ে বকুল আহমেদ বুলুর বাড়ীতে রেখে এসেছিলাম। বলা হয়েছিলো কুমিল্লায় বে আইনি ভাবে করা স্ত্রী কে বাদ দিয়ে সে আসবে। অথচ সাতদিনের মাথায় দ্বিতীয় বউকে নিয়ে বাড়ীতে চলে আসলো। প্রায় মাস খানেক ছিলো ঐ মেয়ে। এলাকাবাসী সবাই দেখেছে। উল্টো সুমীর উপরও নির্যাতন মার ডাং সবসময় করতো। তাই পুনরায় আমি স্থানীয় মুরুব্বীদের নিয়ে সুমিকে ওর বাবার বাড়ীতে পাঠিয়ে দিয়েছি। তিনি আরও জানান ২৪ জানুযারীর ঘটনাও সত্য। আবুল কালাম তথা সুমীদের বাড়ী থেকে বেশকিছুটা দুরে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল বাজার নামে একটি বাজার আছে।তার পাশেই বিশাল একটা কোলা।ঐ দিন রাতে মেয়েটির চিৎকারে লোকজন ছুটে আসে ও সুমিকে কোলার কাছের একটি গর্ত থেকে উদ্ধার করে প্রথমে মেডিকেল বাজারে নেয়া হয় তারপর ডাক্তার দেখিয়ে বাড়ীতে পাঠানো হয়। সুমীর বর বকুল কে হাতেনাতে ধরা না গেলেও স্থানীয় অনেকেই তাকে সরে যাওয়ার সময় দেখতে পেয়েছে বলে জানান।
সুমীর স্বামী বকুল আহমেদ, তার মা আকলিমা বেগম ও বাবা মজাহার আলী গত ২৪ জানুয়ারী ২০২১খৃীঃ সনের রোজ রবিবার স্বন্ধ্যা আনুমানিক ৭ ঘটিকার সময় বাড়ীতে কেউ না থাকার সুযোগে প্রবেশ করে। দুজনের কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে শিশু সন্তান খাদীজা কে বকুলের মা আকলিমা বেগম কোলে তুলে নিয়ে বাড়ীর বাইরে চলে যায়। সুমী মেয়েকে ফেরত নিতে শ্বাশুড়ির পিছু নিলে নদীর তীরবর্তী চর এলাকা ঘনবসতিপূর্ণ না হওয়ায় লোকচক্ষুর আরালে বকুল আহমেদ বুল্লু সুযোগ বুঝে সুমীর গায়ে থাকা চাদর দিয়েই তার মুখ মন্ডল সহ পুরো শরীর পেচিয়ে কাঁধে তুলে ফাকা নির্জন এলাকার দিকে নিয়ে একটি গর্তে ফেলে দেয়। দুজনের ধ্বস্তাধস্তি তে মুখের বাঁধন হালকা হলে সুমী চিৎকার দিয়ে ওঠে। ঘটনাটি কলাকাটা চরের স্থানীয় কমছের আলীর বাড়ীর নিকটবর্তী হওয়ায় তারা মহিলার চিৎকার ও “বাচান গো বাচান” শব্দে কমছের আলী স্থানীয় লোক জন সহ এগিয়ে যায়। কমছের আলী, মজের উদ্দীন, আছর উদ্দীন সেদিনের ঘটনায় সুমীকে অসুস্থ্য ও ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে পার্শবর্তী মেডিকেল বাজারে তারপর বাড়ীতে নিয়ে আসে। সুমী এতটাই ভয়ে ভীত হয়ে পরেছিলো যে তার অবস্থা ভালো ছিলোনা। স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক বিদ্যুত সরকার তার চিকিৎসা করেন বলে উদ্ধারকারী ও পারিবারীক সূত্রে জানা গেছে।
সুমীর অভিযুক্ত স্বামী বকুল আহমেদ ওরফে বুল্লু র বক্তব্য নিতে তার বাড়ীতে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি। তার পরিবারের লোকজনও এ বিষয়ে কোন কথা বলতে প্রতিবেদকের সামনে আসেন নি।
উলিপুর থানা অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ কবীর জানান, বাদীর লিখিত অভিযোগ পেয়ে তদন্ত কার্যক্রমে একজন পুলিশ অফিসার কে দায়িত্ব দেয়া হয়। মাননীয় পুলিশ সুপার মহোদয় একই অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্ত সহ বিষয়টি দেখার জন্য উলিপুর সার্কেল স্যারকে দায়িত্ব দিয়েছেন। স্যারের নির্দেশনা পেলেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল হাসান মাহমুদ উলিপুর সার্কেলের সাথে প্রতিবেদক কয়েকবার চেষ্টা করেও বক্তব্য নিতে পারেন নি। অফিস সূত্রে জানা গেছে জেলা পুলিশ কুড়িগ্রামের বার্ষিক ক্রীড়া ও রংপুর রেন্জ ডিআইজির প্রোগ্রাম এবং মেমোরিয়াল ডে অনুষ্ঠানে ব্যাস্ত আছেন।এ ঘটনায় দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হওয়ায় অদ্যবধি কলিমা বেগম ও আবুল কালামের মেয়ে সুমী বেগমের হত্যা প্রচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে থানা পুলিশ কোন আইনি পদক্ষেপ গ্রহন না করায় শিশুসন্তান সহ মেয়েকে নিয়ে তারা চরম বিপর্যয় ও নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে বলে সুমীর পিতা আবুল কালাম জানান।

Leave your comments