কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের মধ্য উমানন্দ গ্রামে পুর্ব শত্রুতার জের ধরে একই পরিবারের ৬ জন কে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রতিবেশী প্রভাবশালী পরিবার  কর্তৃক হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা হামলার ঐ  স্থান থেকে মুমুর্ষ অবস্থায়  আহতদের উদ্ধার করে উলিপুর উপজেলা সরকারি  স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেছে। আহতদের মধ্যে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত ২ জনের অবস্থা আশংকাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬ ঘটিকার সময়  তবকপুর মধ্য উমানন্দ হাজীপাড়া গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত ৪ জনের মধ্যে সুরুজ্জামান (৫৫) ও মোস্তাফিজার রহমান (৪৫) এর অবস্থা আশংকাজনক। তাদের উভয়ের মাথা ধারালো অস্ত্র ও রডের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছে বলে স্থানীয়রা এবং  কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন। আহতদের মধ্যে বাকি ২ জন আহত  সুরুজ্জামানের ছেলে শরিফুল ইসলাম (১৭) ও চাচাতো ভাই মোঃ মজনু মিয়া ( ৪০) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার ঐ দুই পরিবারের মধ্যে প্রায়ই বাড়ীর সীমানা, রাস্তা চলাচল ও গাছের সুপাড়ি পারা নিয়ে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া বিবাদ হয়। সুরুজ্জামান এর ছেলে সজীব মিয়া(১৫) ও আবু প্রামানিকের ছেলে নিরব হোসেন (১৮)  সন্ধ্যার আগে স্থানীয়  জঙ্গলতলা বাজার থেকে বাড়ী ফেরার পথে প্রতিপক্ষ মোঃ ফয়জার রহমানের বাড়ীর সামনে আসলে বিবাদী পক্ষের ১৪/১৫ জন বাশের লাঠি, রড, ছোরা সহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত  হয়ে তাদের পথরোধ করে গালিগালাজ ও মারপিট করতে থাকে। মারপিট করার সময় ছেলে ও ভাতিজাকে  উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন বাবা সুরুজ্জামান, চাচা মোস্তাফিজার রহমান, মজনু মিয়া ও ভাই শরিফুল ইসলাম। দুই পরিবারের লোকজন মুখোমুখি হলে সংঘর্ষের ঘটনায় সুরুজ্জামান সহ উদ্ধারে এগিয়ে আসা সকলে গুরুতর জখম  ও আহত হন। ঘটনার প্রথম দুইজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ীতে অবস্থান করলেও পরিবারের বাকি ৪ জন  হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উলিপুর থানার এস আই মশিউর রহমান বিট অফিসার তবকপুর জানান,  ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে বিষয়টি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কে অবগত করা হয়েছে । ঘটনা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবকপুর বিট পুলিশিং সূত্র নিশ্চিত করেছে,  লিখিত অভিযোগ হাতে পাওয়া মাত্র তদন্তপুর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করার কথা জানিয়েছেন, উলিপুর থানা অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ কবীর।
নিউজটি আপডেট হওয়ার শেষ মুহুর্তে  আহতদের পরিবার থেকে জানানো হয়, পরিবারের পুরুষগণ প্রায় সকলে আঘাতপ্রাপ্ত ও চিকিৎসারত। এ ঘটনায় গুরতর আহত মোস্তাফিজার রহমানের স্ত্রী মোছাঃ ফুলবানু বেগম (৪০) বাদী হয়ে গতকাল রাত আনুমানিক ১২ ঘটিকার সময় ১১ জন চিহৃিত ও অজ্ঞাত আরও প্রায় ৭/৮ জন কে আসামি করে লিখিত এজাহার উলিপুর থানায় দাখিল করেছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, অপরাধীরা প্রভাবশালী ও উচ্ছৃংখল হওয়ায় এলাকার গরীব দের মানুষ মনে করে না, সুরুজ্জামান ক্ষেতে খামারে ও মানুষের বাড়ীতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। এ ঘটনার উপযুক্ত বিচার দাবী করেছেন এলাকাবাসী।
Leave your comments