ফিরোজ কবির কাজলঃ
কুড়িগ্রামের উলিপুরে অবাধে ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়ার হিড়িক পড়েছে। নামমাত্র টাকা দিয়ে এসব মাটি চলে যাচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায়। সকল নিয়মনীতিকে বৃদাঙ্গুলি দেখিয়ে এসব মাটি দিয়ে চলছে ইট তেরির কাজ। ফলে এতে করে ফসলি জমির উৎপাদন ক্ষমতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।
জানা গেছে, এ উপজেলায় অন্তত ২০টির বেশি বৈধ ও অবৈধ ইটভাটা রয়েছে। কোনো প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে লোকালয় ও কৃষি জমিতে গড়ে উঠেছে এসব ইটভাটা। এসব ভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে ফসলি জমির (টপ সয়েল) মাটি। এতে করে আবাদী জমির পরিমাণ যেমন কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে ভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়ায় ফসলের উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে।
উপজেলা কৃর্ষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফসলি জমির ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি উপরিভাগে পুষ্টি উপাদান থাকে। জমির টপ সয়েল কাটার ফলে উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পায়। তবে বার বার ফসলি জমির মাটি কাটলে একেবারেই উৎপাদন ক্ষমতা বন্ধ হয়ে যাবে।
সরেজমিনে উপজেলার ধামশ্রেণি বড়াইবাড়ি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, তিনটি ট্রাক্টর দিয়ে ৯০ শতক আবাদী জমিতে চলছে মাটি কাটার কাজ। এসব মাটি চলে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী এইচ এস ব্রিকস এ। জানতে চাইলে কয়েক জন শ্রমিক জানান, এসব মাটি গাড়ি প্রতি ১৭০ টাকা দরে কিনে নিয়েছেন ভাটা মালিক মফিজল হক। প্রায় ১৮ দিন ধরে চলছে মাটি কাটার কাজ। শুধু তাই নয় মধুপুর, হাতিয়া গ্রাম, বিষ্ণুবল্লভ, আঠারপাইকা, থেতরাইসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কম পক্ষে অর্ধ শতাধিক জায়গায় দেদারছে ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়ার হিড়িক পড়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় কৃষকদের ফসলি জমির মাটি বিক্রি না করার পরামর্শ দিয়ে থাকি। তবে ফসলি জমির টপ সয়েল কাটার ফলে জমির উর্বরতা কমে যায়। এজন্য জমিতে জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহেল সুলতান জুলকার নাইন বলেন, ইটভাটায় ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। যদি কেউ এ রকম কাজ করে থাকে, তাহলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave your comments