কুড়িগ্রাম ও জামালপুর জেলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন তথা দারিদ্র্য হ্রাসশীর্ষক প্রকল্পের আওতায় গত মঙ্গলবার (২৯.০৯.২০২০) দুপুরে বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) উদ্যোগে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নে ৩২৫ জন সুবিধাভোগীদের মাঝে গরু বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।এসময় গরু বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কুড়িগ্রাম ৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক এম এ মতিন।কুড়িগ্রাম ৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এম এ মতিন জানায়, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্পের আওতায় জামালপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার আটটি উপজেলার ২৫ হাজার হতদরিদ্র সুবিধাভোগীকে ৪০ হাজার টাকা মূল্যে গরুসহ গরু লালন-পালনের বৃত্তি প্রদান করা হবে।এতে করে প্রকল্প এলাকায় দারিদ্র্য হ্রাস পাবে এবং প্রাণিজ আমিষের সরবরাহ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।এছাড়া আট হাজার দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের একজন সদস্যকে কর্মসংস্থানের আত্মনির্ভরশীল প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের আওতায় সুবিধাভোগীদের উৎপাদিত পণ্য প্রক্রিয়াজতকরণ এবং বিপণণের জন্য আটটি উপজেলায় কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দরিদ্র বিমোচনে অগ্রণী ভূমিকা পালনের পাশাপাশি সরকারের ভিশন-২০২১ এসডিজি ২০৩০ এবং রূপকল্প ২০৪১ সহ ডেল্টা প্লান্ট বাস্তবায়নের সহায়ক ভূমিকা রাখবে।অধ্যাপক এম এ মতিন তার বক্তব্যে আরও বলেন, গরু ও ভাতা কার্ড তালিকা প্রনয়ন নিয়ে অনেক ঘটনাই জানা গেছে। উলিপুর উপজেলার সকল দপ্তরের অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যাদের সামাজিক সুরক্ষার জন্য বরাদ্দ দিয়েছেন সেই সকল গরীব হতদরিদ্র ও অসহায়দের হাতে তা তুলে দেয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে তালিকার তদন্ত করে তা সংশোধন করা হবে।আর গরীবের হক মেরে বড় লোক হওয়া যায় না তা সবাই কে বুঝিয়ে দিতে যা যা করা দরকার তাই করা হবে।তিনি নদী ভাঙ্গন রোধ বিষয়ে বলেন, কুড়িগ্রামে এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনাদের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা নদী ভাঙ্গন রোধে তিনশত দুই কোটি ষাট লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। যার কাজ এই এলাকার ব্রহ্মপুত্র নদে চলছে। ব্রহ্মপুত্রের জন্য জীবনে এই প্রথম এতগুলো অর্থ বরাদ্দ পেলো জেলাবাসী।সারে আট হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ প্রায় চুড়ান্ত।এই নদীগুলোর অবস্থা এরকম থাকবে না, নদী খনন হবে, দুই পাড় বাঁধা হবে, রাস্তা হবে, সেই রাস্তার দুই পাশে গাছ লাগানো হবে। এই অঞ্চলের নদী ভাঙ্গন রোধ হবে ইনশাহআল্লাহ।অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি আব্দুল জলিল শেখ, ইউপি সদস্যসহ স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও উপকারভোগী মানুষজন।

Leave your comments