রাশিয়া এবং চীন নির্বাচিত হওয়ায় মানবাধিকার কর্মীদের মাঝে উদ্বেগ,মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ১৫ টি শূন্য আসনের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সৌদি আরব কাউন্সিলের সদস্যপদ লাভ করতে ব্যর্থ হলেও রাশিয়া এবং চীন ভোটের মাধ্যমে কাউন্সিলে নির্বাচিত হয়।এই দুই দেশের নির্বাচিত হওয়া নিয়ে মানবাধিকার কর্মীদের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উল্লেখ্য যে নতুন সদস্য দেশগুলি ২০২১ সালের জানুয়ারী মাস থেকে তিন বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।
এশিয়া গ্রুপ থেকে চীন (১৩৯ ভোট) এবং পাকিস্তান (১৬৯ ভোট) কাউন্সিলে নির্বাচিত হয়। এবং পঞ্চম স্থান পেয়ে সৌদি আরব নেপালের কাছে পরাজিত হয়। নেপাল ১৫০ ভোট পেয়েছে বলে জানা যায়।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের জাতিসংঘ পরিচালক লুই চার্বনো বলেছেন, “মানবাধিকার দমনকারীদের মানবাধিকার কাউন্সিলের আসন দিয়ে পুরস্কৃত করা উচিত নয়”।“সবচেয়ে খারাপ মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীরা যখন নির্বাচিত হন তখন মানবাধিকারের পক্ষে বা অধিকার কাউন্সিলের পক্ষে তা মঙ্গলজনক হয় না,” বলে তিনি যোগ করেন।অধিকারের পক্ষে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ক্র্যাকডাউন, ইয়েমেনের যুদ্ধে শীর্ষস্থানীয় ভূমিকা এবং সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগজির হত্যার ঘটনায় মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলি সৌদি আরবের তীব্র সমালোচনা করেছে।ইতোমধ্যে বেইজিং ও মস্কোর প্রার্থিতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংস্থা গুলো। মূলত সিরিয়া যুদ্ধে রাশিয়ার বিতর্কিত ভূমিকা এবং সিনজিয়াংয়ে উইঘুর-বিরোধী চীনের নীতিগুলির কারণে তারা এই বিরোধিতা করেন বলে জানা যায়।হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক কেনেথ রোথ টুইট করে বলেন, ” বিশ্বের দেশগুলোকে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের আসনের দুই প্রার্থী চীন ও সৌদি আরবকে ভোট দেওয়া উচিত নয়। সিরিয়ার সশস্ত্র সংঘর্ষে রাশিয়ার অসংখ্য যুদ্ধাপরাধ এর জন্যও তাদেরকে ভোট দেওয়া উচিত নয়।
অন্যদিকে ওয়াশিংটন “ইসরাইলের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব” অভিযোগে ২০১৮ সালে কাউন্সিল থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। তা সত্ত্বেও মিশর ও সৌদি আরব সহ মধ্য প্রাচ্যের স্বৈরাচারী সরকারগুলির সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে বরাবরই নিন্দা জানিয়ে আসছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
সূত্রঃ মিডল ইস্ট আই
Leave your comments