আইপিএলে এবার প্রথম খেলছেন রাজস্থান রয়্যালসে। নতুন দলে অভিষেকটা কি ভুলে যাওয়ার মতোই হয়েছিল মোস্তাফিজুর রহমানের? ৪ ওভারে ৪৫ রান খরচায় নেই উইকেট। এমন বোলিং ফিগার দেখলে যে কেউই বলবেন, মোস্তাফিজ ভালো করতে পারেননি।তবে যারা পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে রাজস্থান রয়্যালসের সোমবারের ম্যাচটি পুরোটা মনোযোগ দিয়ে দেখেছেন, তারা এভাবে দোষ ঢেলে দেবেন না মোস্তাফিজের ওপর। কেননা ওই ম্যাচে প্রথম তিন ওভার বেশ ভালো বল করেন বাংলাদেশি পেসার।এমনকি দুটি উইকেট তার প্রাপ্য ছিল। একবার নিশ্চিত এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার, আরেকবার ক্যাচ ড্রপ করেন জস বাটলার। যে ম্যাচে প্রতিপক্ষ ২২১ রানের পাহাড় গড়ে সেখানে চার ওভারে ৪৫ রান খরচ হতেই পারে। তবে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলার তো উপায় ছিল না। পরিসংখ্যান তো বিপক্ষে কথা বলবেই।এবার আর শুধু শুরুটা ভালো করেই ক্ষান্ত হলেন না মোস্তাফিজ। নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই দেখা দিলেন স্বরূপে। দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ৪ ওভারে ২৯ রান দিয়ে মোস্তাফিজ আজ শিকার করেছেন ২ উইকেট, তার ওভারে আবার একটি রানআউটও হয়েছে। সবমিলিয়ে মনে রাখার মতো পারফরম্যান্স।শুরুটা করেছিলেন জয়দেব উনাদকাত, শেষটা মোস্তাফিজের। রাজস্থান রয়্যালসের এই দুই পেসারের তোপ সামলে আর বড় সংগ্রহ গড়া হয়নি দিল্লি ক্যাপিটালসের।
৮ উইকেটে ১৪৭ রানে থেমেছে রিশাভ পান্তের দল। প্রথম ছয় ওভারের পাওয়ার প্লে’তে উনাদকাতের আগুন ঝরানো বোলিংয়ের পর সপ্তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানকে আক্রমণে আনেন রাজস্থান অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন। প্রথম ওভারেই অধিনায়কের মুখে হাসি ফোটান টাইগার পেসার।ওই ওভারের প্রথম বলে এক রান দেন মোস্তাফিজ। পঞ্চম ডেলিভারিতে মার্কাস স্টয়নিসকে (০) বোকা বানান দুর্দান্ত এক কাটারে। বলের গতি বুঝতে না পেরে ব্যাট পেতে দিয়েছিলেন দিল্লির অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান, আকাশে ভেসে থাকা বল দৌড়ে গিয়ে দারুণভাবে তালুবন্দী করেন জস বাটলার। ওই ওভারে মাত্র এক রানই দেন ফিজ।এরপর কিছুটা বিরতি দিয়ে ১২তম ওভারে মোস্তাফিজকে আবারও আক্রমণে আনেন স্যামসন। এই ওভারের শেষ বলে বাউন্ডারি হজম করেও ৮ রানের বেশি খরচ করেননি কাটার মাস্টার।দারুণ বোলিং করা মোস্তাফিজকে এরপর ডেথ ওভারের জন্য জমা রাখেন রাজস্থান অধিনায়ক। ১৭তম ওভারে আবারও তাকে আনা হয়। এবারও খরচ ৮ রান। ১৯তম ওভারে এসে বাঁহাতি এই পেসার পেয়ে যান নিজের দ্বিতীয় উইকেটের দেখাও।এবার প্রথম বলেই বাউন্ডারি হজম করেছিলেন। পরের বলে দারুণভাবে ফেরেন ফিজ। টম কুরানকে (১২ বলে ২১) দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে আনন্দে মাতেন টাইগার পেসার।প্রথম তিন ওভারে মাত্র ১৭ রান দেয়া মোস্তাফিজ নিজের শেষ ওভারে একটুু খরুচে ছিলেন। তবে ডেথের বোলিংয়ে এটাকে খুব খারাপ বলার উপায় নেই। ১২ রান খরচ করে একটি উইকেট তো নিয়েছেন, হয়েছে একটি রানআউটও।এই ম্যাচের পারফরম্যান্সের পর এবারের আইপিএলে মোস্তাফিজের একটা জায়গা তৈরি হয়েই গেল। রাজস্থান টিম ম্যানেজম্যান্ট নিশ্চয়ই এমন পারফরমারকে সাইডলাইনে বসিয়ে রাখতে চাইবে না!

 

Leave your comments